রমজানের আগমন - তানজিল হাসান
রমজানের আগমন
১লা রমজান ১৪৪৭খ্রি.
আজ পবিত্র মাহে রমজানের প্রথম দিন। মুসলিম উম্মাহর জন্য এটি এক আনন্দ, রহমত ও আত্মশুদ্ধির মাস। আকাশে চাঁদ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে যেন পৃথিবীর বুকে নেমে আসে এক অনন্য প্রশান্তি। মসজিদে মসজিদে তারাবির নামাজ, ঘরে ঘরে সেহরি ও ইফতারের আমেজ—সব মিলিয়ে এক উৎসব মূখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়ে যায়।
রমজানের উদ্দেশ্যঃ
রমজান হলো ইসলামের পবিত্রতম মাস, যে মাসে মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআন নাজিল করেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
شَهْرُ رَمَضَانَ ٱلَّذِىٓ أُنزِلَ فِيهِ ٱلْقُرْءَانُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَٰتٍ مِّنَ ٱلْهُدَىٰ وَٱلْفُرْقَانَ.
“রমজান মাস—এতেই মানুষের দিশারী এবং সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে কুরআন নাযিল করা হয়েছে। -(সুরা আল-বাকারা:১৮৫)
আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
“হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।”
— (সূরা আল-বাকারা: ১৮৩)
এই আয়াতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, রোজার মূল উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া বা আল্লাহভীতি অর্জন। অর্থাৎ রোজা শুধু ক্ষুধা-তৃষ্ণা সহ্য করার নাম নয়; বরং আত্মসংযম, ধৈর্য, সহমর্মিতা ও নৈতিক উন্নতির এক প্রশিক্ষণ।
রমজানের ফজিলতঃ
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন—
مَن صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِن ذَنْبِهِ
“যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখবে, তার পূর্বের সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।”
— (সহিহ বুখারি)
রমজান হলো ক্ষমা ও রহমতের মাস। আন্তরিকতার সাথে ইবাদত করলে আল্লাহ তাআলা বান্দার অতীতের গুনাহ মাফ করে দেন।
রমজানের পরিবেশঃ
রমজান এলেই বদলে যায় সমাজের চিত্র—
★মসজিদগুলোতে মুসল্লিদের ভিড় বাড়ে।
★তারাবির নামাজে কুরআন তিলাওয়াতের ধ্বনি শোনা যায়।
★ধনী-গরিব সবাই একসাথে ইফতার করে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করে।
★যাকাত ও সদকার মাধ্যমে অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো হয়।
আত্মশুদ্ধির আহ্বানঃ
রমজান আমাদের শেখায়—মিথ্যা, গীবত ও অন্যায় থেকে দূরে থাকতে। ধৈর্য ও সহনশীলতা অর্জন করতে। গরিব ও অভাবীদের কষ্ট উপলব্ধি করতে।
এই মাস কেবল রোজা রাখার জন্য নয়; বরং নিজের ভেতরের খারাপ অভ্যাসগুলো পরিত্যাগ করে নতুনভাবে জীবন গড়ার সুযোগ।
“রমজানের আগমন” মানেই নতুন আশা, নতুন প্রেরণা। এটি এমন এক মাস, যা আমাদের হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করে, আত্মাকে আলোকিত করে এবং সমাজে ন্যায় ও মানবিকতার বার্তা ছড়িয়ে দেয়।
আসুন, আমরা সকলে এই পবিত্র মাসকে যথাযথ মর্যাদায় পালন করি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করি। রমজান পবিত্রতা রক্ষা করা আমাদের সকলের জন্য ফরজ।


